Saturday, February 16, 2019
সর্বশেষ সংবাদ
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হবে না: আইনমন্ত্রী         বিরোধীদের নির্মূলে সরকার মরিয়া: মির্জা আলমগীর         পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বাম জোট         বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ৩ দিন বন্ধ থাকবে         কোম্পানীগঞ্জে গর্তে পড়ে আবারো এক শ্রমিক নিহত         সিসিকের বকেয়া বিল আদায় অভিযান অব্যাহত, ৭ দিনে ৩৩ লাখ টাকা আদায়         ছড়া-খাল দখলকারীরা যত বড় প্রভাবশালী হোক, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা-সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী         নগরীতে ‘বৈকালিক সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন’ টিকাদান কর্মসূচিতে বিশ্বে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল—সিসিকের প্রধান নির্বাহী         চার দেশে আশ্রয় চাইলেন আলোচিত সৌদি যুবতী কুনুন         ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: স্থগিত ৩ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছে        

আমাদের অপূর্ব সিলেটের কিছু কথা……..

        ॥ নূরুল ইসলাম জুয়েল ॥
সুরমানদীর তীরে অবস্থিত একটি বিভাগীয় শহর। এ শরহটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ শহর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত এ শহরটি দেশের আধ্যাতিœক রাজধানী হিসেবে খ্যাত। জৈন্তা পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য,জাফলং এর মনোমুগদ্ধকর সৌন্দর্য, ভোলাগঞ্জের সারি সারি পাথরের ¯ু‘প পর্যটকদের টেনে আনে বার বার । এ শহরের প্রচুর পরিমাণ লোক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাস করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে।
1ক্স    সিলেটের বালু-পাথরের গুনগতমান দেশের সিংহভাগ চাহিদা পূরণ করে থাকে।
ক্স    স্বাধীনতা যুদ্ধে এ জেলার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। মুক্তি যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী এ জেলারই সন্তান।
ক্স    শীতমৌসুমে সিলেটের বিল-হাওর গুলো ভরেউঠে অতিথি পাখির কলরবে।
সিলেট কে সিলেট করে নামকরণঃ- প্রাচীন গ্রন্থাদিতে এ অঞ্চলের বিভিন্ন নামের উল্লেখ আছে। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে শিবের স্ত্রী সাতি দেবি কাটা হাত এই অঞ্চলে পড়েছিল। যার ফলে শ্রী হস্ত হতে শ্রীহট্র নামের উৎপত্তি বলে হিন্দু সম্প্রদায় বিশ্বাস করেন। চতুর্থ শতকের ঐতিহাসিক এরিয়ান লিখিত বিবরনীতে এই অঞ্চলের নাম “সিরিওট” বলে উল্লেখ আছে। অতঃপর ৬৪০ সালে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এই অঞ্চলে ভ্রমণ করেন । তিনি তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে এ অঞ্চলের নাম “শিলিচতল” নাম উল্লেখ করেন। তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খালজি দ্বারা বঙ্গ বিজয়ের মধ্য দিয়ে এদেশে মুসলিম সমাজব্যবস্থার সূত্রপাত ঘটলে মুসলিম শাসকগণ তাঁদের দলিলপত্রে “শ্রীহট্র” নামের পরিবর্তে “সিলাহেট/ সিলহেট ইত্যাদি নাম লিখেছেন বলে ইতিহাসে প্রমাণ মিলে। আর এভাবেই শ্রীহট্র থেকে রূপান্তর হতে হতে একসময় সিলেট নামটি প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছে বলে ঐতিহাসিকরা ধারণা করেন।
সিলেট বিভাগের সীমাঃ- উত্তরে ভারতের মেঘালয় ; দক্ষিণে-চট্রগ্রাম বিভাগ; পূর্বে ভারতের আসাম রাজ্য; এবং পশ্চিমে ঢাকা বিভাগ। আয়াতনঃ ১২,৭১৭ বর্গ কিলোমিটার। লোকসংখ্যাঃ ১০,১৯,৬৯,৯৫ জন প্রায়।  এখানে হযরত শাহ জালাল রহ. এর মাজার অবস্থিত । মাজার সংলগ্ন একটি মসজিদ ও একটি উচ্চ পর্যায়ের ক্বওমী মাদ্রাসা আছে। এছাড়া একটি আলিয়া মাদ্রাসা ও আছে।  বিশ্ববিদ্যালয় , মেডিকেল কলেজ,2
নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ,রাগীব-রাবিয়া মেডিকেল কলেজ,উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, এবংএকটি আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর রয়েছে। মুরারিচাঁদ কলেজ (এম সি), সরকারী কলেজ, সরকারী মহিলা কলেজ, সিলেট ক্যাডেট কলেজ, মদন মোহন কলেজ, সিলেট কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয় ইত্যাদি। এছাড়া শহর থেকে প্রায় দশ কিঃমিঃ দূরে হযরত শাহপরাণ রহ. এর মাজার রয়েছে। শহর সংলগ্ন হযরত গাজী বুরহান উদ্দিন রহ. ,হযরত বাহা উদ্দিন রহ. এর মাজার আছে। এজন্য সিলেটকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়। বলা বাহুল্য আমাদের সিলেটে  বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশী আলেম-উলামা, পীর বুজুর্গ এবং সবচেয়ে বেশী ক্বওমী মাদ্রাসা অবস্থিত।

সিলেট জেলার বিখ্যাত উলামায়ে কেরামঃ-
ক্স    হযরত মাওলানা বশীর আহমদ (রহ) তিনি শায়খে বাঘা হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা হুছাইন আহমদ মাদানী রহ. এর বিশিষ্ট খলিফা ছিলেন।
ক্স     হযরত মাওলানা হাফিয আব্দুল করীম (রহ) তিনি শায়খে কৌড়িয়া নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনিও মাদানী রহ. এর খলিফা ছিলেন। এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি ছিলেন।
ক্স    হযরত মাওলানা মুশাহিদ আলী বায়মপুরী রহ.।
ক্স    হযরত মাওলানা রিয়াছত আলী রহ. শায়খে চৌঘরী ।
3ক্স    হযরত মাওলানা আব্দুল মতীন রহ. শায়খে ফুলবাড়ী ।
ক্স    হযরত মাওলানা শফিকুল হক্ব রহ. শায়খে আকুনী।
ক্স    হযরত মাওলান  উবায়দুল হক্ব রহ. বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের সম্মানিত খতিব ছিলেন।
ক্স    হযরত মাওলানা হাফিয নুরুদ্দিন গহরপুরী রহ. বেফাক বোর্ডের সভাপতি ছিলেন।
ক্স    হযরত মাওলানা আব্দুল্লাহ রহ. শায়খে হরীপুরী।
ক্স    হযরত মাওলানা বদরুল আলম (রহ)  শায়খে রেঙ্গা।
ক্স    হযরত মাওলানা আকবর আলী (রহ) ইমাম দরগাহে হযরত শাহ জালাল রহ. ছিলেন।
ক্স    হযরত মাওলানা শায়খ ইউনুছ আলী রায়গড়ী রহ. তিনি ও খলিফায়ে মাদানী।
ক্স    হযরত মাওলানা রিয়াযুর রব রহ. ঢাকাদক্ষিণ। তিনি ও খলিফায়ে মাদানী।
ক্স    হযরত মাওলানা শামসুল ইসলাম শেরপুরী রহ.।
ক্স    হযরত মাওলানা মুফাজ্জল আলী সিকন্দরপুরী (রহ) ।
ক্স    হযরত মাওলানা ওয়ারিছ উদ্দিন শায়খে হাজীপুরী রহ.।
ক্স    হযরত মাওলানা শায়খ তজম্মুল আলী রহ. তিনিও খলিফায়ে মাদানী ।
ক্স    হযরত মাওলানা ইসমাঈল আলী রহ. চারখাই।
ক্স    হযরত মাওলানা হাসান আলী রহ. গোয়াইনঘাটী।
ক্স    হযরত মাওলানা সিকান্দর আলী রহ. টিকরপাড়া।
ক্স    হযরত মাওলানা আব্দুল খালিক রহ. বাঘা।
ক্স    হযরত মাওলানা আশরাফ আলী রহ. বিশ্বনাথী।4
সিলেটের বরেণ্য বর্তমান জীবন্ত কিংবদন্তি যারাঃ-
ক্স    হযরত মাওলানা হুছাইন আহমদ শায়খে বারকুটি ।
ক্স    হযরত মাওলানা শায়খ জিয়া উদ্দিন ।
ক্স    হযরত মাওলানা মুহিব্বুল হক্ব গাছবাড়ী ।
ক্স    হযরত মাওলানা আব্দুল বাসিত বরকতপুরী  ।
ক্স    হযরত মাওলানা শফিকুল হক্ব আমকুনী।
ক্স    হযরত মাওলানা আলীম উদ্দিন দুর্লভপুরী।
ক্স    হযরত মাওলানা মকদ্দছ আলী মুন্সীবাজারী।
ক্স    হযরত মাওলানা প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান ।
ক্স    হযরত মাওলানা নূরুল ইসলাম  বিশ্বনাথী।
ক্স    হযরত মাওলানা হাফিয মজদুদ্দীন আহমদ ।
ক্স    হযরত মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন খতীব বন্দর বাজার জামে মসজিদ।
ক্স    হযরত মাওলানা ক্বারী আব্দুল মতীন
ক্স    হযরত মাওলানা এ্যাডভোকেট রশীদ আহমদ।
সিলেট জেলার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ক্বওমী মাদ্রাসাঃ-
ক্স    জামিয়া ক্বাসিমুল উলুম দরগাহ ।
ক্স    জামিয়া মাদানীয়া কাজির বাজার ।
ক্স    জামিয়া মাদানীয়া আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর।
ক্স    জামিয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গা।
ক্স    জামিয়া নূরিয়া ভার্থখলা ।
ক্স    বাঘা গোলাপনগর আরাবিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা।
ক্স    জামিয়া হুছাইনিয়া গহরপুর।
ক্স    দারুল উলুম কানাইঘাট।
ক্স    জামিয়া মাহমুদিয়া সোবহানীঘাট।
সিলেটের দর্শনীয় স্থান সমূহঃ-
ক্স    হযরত শাহজালাল রহ. ও হযরত শাহপরাণ রহ. এর মাযার ।
ক্স    লাক্কারতুরা চা বাগান:- সিলেট শহর থেকে এয়ারপোর্ট রোড ধরে কিছু দূর এগুলেই দেখা যাবে এ চা বাগানটি। চা বাগানটি ঘুরে ভালো লাগার আবেশে মনটা ভরে যাবে সবার।
ক্স    ক্বিন ব্রিজ :- হযরত শাহজালাল রহ. – এর মাজার থেকে ১৫-২০ টাকা রিকশা ভাড়ার দূরত্বে। সুরমা ব্রিজ নামেও এটি বেশ পরিচিত। ১৯৩৬ সালে নির্মাণ করা হয় এটি। তৎকালীন ইংরেজ গভর্নর মাইকেল ক্বিনের নামেই এর নাম করণ করা হয় । ১১৫০ ফুট লম্বা এবং ১৮ ফুট প্রস্থ এ ব্রিজটি দেখতে ধনুকের মতো বাঁকানো।

ক্স    আলী আমজাদের ঘড়িঘর:- ক্বিন ব্রিজ থেকে নীচে তাকালেই চোখে পড়ে একটি ঘড়িঘর । ব্রিজের পাশে চাঁদনীঘাটে অবস্থিত এ ঘড়িটি আজও দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। জানা যায়,প্রথম পাশার বিখ্যাত জমিদার আলী আমজাদ খাঁ দিল্লির চাঁদনীচকে শাহজাদী জাহানারা কর্তৃক নির্মিত ঘড়িঘর। দেখে সবাই মুগ্ধ হয়ে যায়।
ক্স    ওসমানী স্মৃতি জাদুঘর:- সিলেট শহরের কাছে নাইওরপুল রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গনী ওসমানীর বাস ভবন “নূর মঞ্জিল” বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের পরিচালনায় এ ঘরে  রয়েছে ওসমানীর স্মৃতি জাদুঘর যা প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী দেখে মুগ্ধ হন।
ক্স    মালনিছড়া চা বাগান:- শহর ছেড়ে বিমান বন্দরের দিকে একটু এগুলেই হাতের বাম পাশ সুন্দর এ চা বাগানটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো চা বাগান। ইংরেজ সাহেব হার্ডসনের হাত ধরে  ১৮৫৪ সালে এ চা বাগানের প্রতিষ্টা।5
ক্স    বাংলাদেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন রাতারগুল:- সৌর্ন্দয ও সারল্যে মিলে মিশে আছে রাতারগুল সোয়াম্প ফরেষ্ট । যা কি-না দেশের একমাত্র জলজ বন। রাতালগুল যেতে বির্স্তীণ গ্রাম্য প্রান্তর । বন ঘেঁষা পাহাড়ী সৌর্ন্দয আপনাকে আবেগপ্লুত করবে। প্রাণে দোলা দেবে আর মন ভরিয়ে দিবে সতেজতায়। তবে সবচেয়ে বেশী সুন্দর ও আকর্ষন হলো বর্ষার সময়।
ক্স    জাফলং:- সিলেট শহর থেকে জাফলং এর দূরত্ব প্রায় ৫৫ কিঃমিঃ ভারতের সীমান্ত ঘেঁষে খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের কোলে মনোরম দৃশ্যের  এ স্থানটি । এখানে একটি পাথরের নদী আছে,নদী পার হয়ে খাসিয়াদের পুঁঞ্জি,কমলার বাগান, খাসিয়া পান  চা বাগান ইত্যাদি দেখা যায়। শহর থেকে জাফলং যেতে পড়বে জৈন্তা রাজবাড়ী ,লালা খাল স্পট ,তামাবিল ,শ্রীপুর পিকনিংক সেন্টার।
ক্স    বিছনাকাঁন্দি স্পট:- সিলেট শহর থেকে গোয়াইনঘাট থানায় অবস্থিত বিছনা কান্দি স্পট । এখানে একটি ঝর্না আছে, দেশ-বিদেশের অনেক পর্যটক এই ঝর্না দেখতে ও গোসল করতে আসেন।
ক্স    মাধবকুন্ড জলপ্রপাত:- পাথরিয়া পাহাড়ের প্রায় ২৭২ ফুট উপর হতে অবিরাম গতিতে জলরাশির নিচে পতিত হওয়ার ফলে সৃষ্টি হয়েছে মাধবকুন্ড।
ক্স    হরিপুরের গ্যাস ক্ষেত্র:- এখানে একটি গ্যাসের খনি আছে। গ্যাসের জ্বালানো টিলা আছে, কেহ যদি এই টিলায় পাথর দিয়ে আঘাত করে/পাথর দিয়ে ঢিল মারে তাহলে সাথে সাথে আগুন ধরে যায় ।
ক্স    উতলার  পাড়:- ৭নং কুপের নিকটেই উতলার পাড় অবস্থিত এখানে পানি ভরা একটি পুকরের মতো জায়গা যার গভীরতার কোন হদীছ পাওয়া যায়নি । এখানে সব সময় পানি থাকে ও প্রচুর পরিমানে ফেনা উঠে এই পানির ফেনায় ম্যাচ/দিয়াশলাই ইত্যাদি দিয়ে আগুন ধরালে সাথে সাথে আগুন  ধরে যায় । এই আগুন আর পানির লিলা খেলা দেখলে মনটা ভরে যায়।
ক্স    মনিপুরী জাদুঘরঃ- শহরের সুবিদবাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাড়ীতে প্রতিষ্টা করা হয়েছে এ জাদুঘর।
ক্স    সিলেটে দেখার মতো আরো কয়েকটি জায়গাঃ- জাকারিয়া সিটি,ওসমানী শিশু পার্ক,ড্রীমল্যান্ড পার্ক,ইকো পার্ক,নাজিমগড় রিসোর্ট, এডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড,শহীদ মিনার,সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ষ্টেডিয়াম ,পর্যটন মোটেল। ইত্যাদি।
ক্স    সিলেটের বিখ্যাত খাবারের নামঃ- সিলেটের সাত কড়ার আচার, উন্দাল এর স্পেশাল ভেজিটেবল,সিলেটের পাঁচ লেয়ার চা, সিলেটের চুঙ্গাপুড়া ইত্যাদি।
লেখকঃ
শিক্ষকঃ-বাঘা গোলাপনগর আরাবিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা

॥ নূরুল ইসলাম জুয়েল ॥
সুরমানদীর তীরে অবস্থিত একটি বিভাগীয় শহর। এ শরহটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ শহর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন্ডিত এ শহরটি দেশের আধ্যাতিœক রাজধানী হিসেবে খ্যাত। জৈন্তা পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য,জাফলং এর মনোমুগদ্ধকর সৌন্দর্য, ভোলাগঞ্জের সারি সারি পাথরের ¯ু‘প পর্যটকদের টেনে আনে বার বার । এ শহরের প্রচুর পরিমাণ লোক পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাস করে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করে দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে।
ক্স    সিলেটের বালু-পাথরের গুনগতমান দেশের সিংহভাগ চাহিদা পূরণ করে থাকে।
ক্স    স্বাধীনতা যুদ্ধে এ জেলার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। মুক্তি যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম.এ.জি ওসমানী এ জেলারই সন্তান।
ক্স    শীতমৌসুমে সিলেটের বিল-হাওর গুলো ভরেউঠে অতিথি পাখির কলরবে।
সিলেট কে সিলেট করে নামকরণঃ- প্রাচীন গ্রন্থাদিতে এ অঞ্চলের বিভিন্ন নামের উল্লেখ আছে। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে শিবের স্ত্রী সাতি দেবি কাটা হাত এই অঞ্চলে পড়েছিল। যার ফলে শ্রী হস্ত হতে শ্রীহট্র নামের উৎপত্তি বলে হিন্দু সম্প্রদায় বিশ্বাস করেন। চতুর্থ শতকের ঐতিহাসিক এরিয়ান লিখিত বিবরনীতে এই অঞ্চলের নাম “সিরিওট” বলে উল্লেখ আছে। অতঃপর ৬৪০ সালে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এই অঞ্চলে ভ্রমণ করেন । তিনি তাঁর ভ্রমণ কাহিনীতে এ অঞ্চলের নাম “শিলিচতল” নাম উল্লেখ করেন। তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খালজি দ্বারা বঙ্গ বিজয়ের মধ্য দিয়ে এদেশে মুসলিম সমাজব্যবস্থার সূত্রপাত ঘটলে মুসলিম শাসকগণ তাঁদের দলিলপত্রে “শ্রীহট্র” নামের পরিবর্তে “সিলাহেট/ সিলহেট ইত্যাদি নাম লিখেছেন বলে ইতিহাসে প্রমাণ মিলে। আর এভাবেই শ্রীহট্র থেকে রূপান্তর হতে হতে একসময় সিলেট নামটি প্রসিদ্ধ হয়ে উঠেছে বলে ঐতিহাসিকরা ধারণা করেন।
সিলেট বিভাগের সীমাঃ- উত্তরে ভারতের মেঘালয় ; দক্ষিণে-চট্রগ্রাম বিভাগ; পূর্বে ভারতের আসাম রাজ্য; এবং পশ্চিমে ঢাকা বিভাগ। আয়াতনঃ ১২,৭১৭ বর্গ কিলোমিটার। লোকসংখ্যাঃ ১০,১৯,৬৯,৯৫ জন প্রায়।  এখানে হযরত শাহ জালাল রহ. এর মাজার অবস্থিত । মাজার সংলগ্ন একটি মসজিদ ও একটি উচ্চ পর্যায়ের ক্বওমী মাদ্রাসা আছে। এছাড়া একটি আলিয়া মাদ্রাসা ও আছে।  বিশ্ববিদ্যালয় , মেডিকেল কলেজ,
নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ,রাগীব-রাবিয়া মেডিকেল কলেজ,উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, এবংএকটি আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর রয়েছে। মুরারিচাঁদ কলেজ (এম সি), সরকারী কলেজ, সরকারী মহিলা কলেজ, সিলেট ক্যাডেট কলেজ, মদন মোহন কলেজ, সিলেট কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয় ইত্যাদি। এছাড়া শহর থেকে প্রায় দশ কিঃমিঃ দূরে হযরত শাহপরাণ রহ. এর মাজার রয়েছে। শহর সংলগ্ন হযরত গাজী বুরহান উদ্দিন রহ. ,হযরত বাহা উদ্দিন রহ. এর মাজার আছে। এজন্য সিলেটকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়। বলা বাহুল্য আমাদের সিলেটে  বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশী আলেম-উলামা, পীর বুজুর্গ এবং সবচেয়ে বেশী ক্বওমী মাদ্রাসা অবস্থিত।

সিলেট জেলার বিখ্যাত উলামায়ে কেরামঃ-
ক্স    হযরত মাওলানা বশীর আহমদ (রহ) তিনি শায়খে বাঘা হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা হুছাইন আহমদ মাদানী রহ. এর বিশিষ্ট খলিফা ছিলেন।
ক্স     হযরত মাওলানা হাফিয আব্দুল করীম (রহ) তিনি শায়খে কৌড়িয়া নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনিও মাদানী রহ. এর খলিফা ছিলেন। এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি ছিলেন।
ক্স    হযরত মাওলানা মুশাহিদ আলী বায়মপুরী রহ.।
ক্স    হযরত মাওলানা রিয়াছত আলী রহ. শায়খে চৌঘরী ।
ক্স    হযরত মাওলানা আব্দুল মতীন রহ. শায়খে ফুলবাড়ী ।
ক্স    হযরত মাওলানা শফিকুল হক্ব রহ. শায়খে আকুনী।
ক্স    হযরত মাওলান  উবায়দুল হক্ব রহ. বাংলাদেশের জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের সম্মানিত খতিব ছিলেন।
ক্স    হযরত মাওলানা হাফিয নুরুদ্দিন গহরপুরী রহ. বেফাক বোর্ডের সভাপতি ছিলেন।
ক্স    হযরত মাওলানা আব্দুল্লাহ রহ. শায়খে হরীপুরী।
ক্স    হযরত মাওলানা বদরুল আলম (রহ)  শায়খে রেঙ্গা।
ক্স    হযরত মাওলানা আকবর আলী (রহ) ইমাম দরগাহে হযরত শাহ জালাল রহ. ছিলেন।
ক্স    হযরত মাওলানা শায়খ ইউনুছ আলী রায়গড়ী রহ. তিনি ও খলিফায়ে মাদানী।
ক্স    হযরত মাওলানা রিয়াযুর রব রহ. ঢাকাদক্ষিণ। তিনি ও খলিফায়ে মাদানী।
ক্স    হযরত মাওলানা শামসুল ইসলাম শেরপুরী রহ.।
ক্স    হযরত মাওলানা মুফাজ্জল আলী সিকন্দরপুরী (রহ) ।
ক্স    হযরত মাওলানা ওয়ারিছ উদ্দিন শায়খে হাজীপুরী রহ.।
ক্স    হযরত মাওলানা শায়খ তজম্মুল আলী রহ. তিনিও খলিফায়ে মাদানী ।
ক্স    হযরত মাওলানা ইসমাঈল আলী রহ. চারখাই।
ক্স    হযরত মাওলানা হাসান আলী রহ. গোয়াইনঘাটী।
ক্স    হযরত মাওলানা সিকান্দর আলী রহ. টিকরপাড়া।
ক্স    হযরত মাওলানা আব্দুল খালিক রহ. বাঘা।
ক্স    হযরত মাওলানা আশরাফ আলী রহ. বিশ্বনাথী।
সিলেটের বরেণ্য বর্তমান জীবন্ত কিংবদন্তি যারাঃ-
ক্স    হযরত মাওলানা হুছাইন আহমদ শায়খে বারকুটি ।
ক্স    হযরত মাওলানা শায়খ জিয়া উদ্দিন ।
ক্স    হযরত মাওলানা মুহিব্বুল হক্ব গাছবাড়ী ।
ক্স    হযরত মাওলানা আব্দুল বাসিত বরকতপুরী  ।
ক্স    হযরত মাওলানা শফিকুল হক্ব আমকুনী।
ক্স    হযরত মাওলানা আলীম উদ্দিন দুর্লভপুরী।
ক্স    হযরত মাওলানা মকদ্দছ আলী মুন্সীবাজারী।
ক্স    হযরত মাওলানা প্রিন্সিপাল হাবীবুর রহমান ।
ক্স    হযরত মাওলানা নূরুল ইসলাম  বিশ্বনাথী।
ক্স    হযরত মাওলানা হাফিয মজদুদ্দীন আহমদ ।
ক্স    হযরত মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন খতীব বন্দর বাজার জামে মসজিদ।
ক্স    হযরত মাওলানা ক্বারী আব্দুল মতীন
ক্স    হযরত মাওলানা এ্যাডভোকেট রশীদ আহমদ।
সিলেট জেলার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ক্বওমী মাদ্রাসাঃ-
ক্স    জামিয়া ক্বাসিমুল উলুম দরগাহ ।
ক্স    জামিয়া মাদানীয়া কাজির বাজার ।
ক্স    জামিয়া মাদানীয়া আঙ্গুরা মোহাম্মদপুর।
ক্স    জামিয়া তাওয়াক্কুলিয়া রেঙ্গা।
ক্স    জামিয়া নূরিয়া ভার্থখলা ।
ক্স    বাঘা গোলাপনগর আরাবিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা।
ক্স    জামিয়া হুছাইনিয়া গহরপুর।
ক্স    দারুল উলুম কানাইঘাট।
ক্স    জামিয়া মাহমুদিয়া সোবহানীঘাট।
সিলেটের দর্শনীয় স্থান সমূহঃ-
ক্স    হযরত শাহজালাল রহ. ও হযরত শাহপরাণ রহ. এর মাযার ।
ক্স    লাক্কারতুরা চা বাগান:- সিলেট শহর থেকে এয়ারপোর্ট রোড ধরে কিছু দূর এগুলেই দেখা যাবে এ চা বাগানটি। চা বাগানটি ঘুরে ভালো লাগার আবেশে মনটা ভরে যাবে সবার।
ক্স    ক্বিন ব্রিজ :- হযরত শাহজালাল রহ. – এর মাজার থেকে ১৫-২০ টাকা রিকশা ভাড়ার দূরত্বে। সুরমা ব্রিজ নামেও এটি বেশ পরিচিত। ১৯৩৬ সালে নির্মাণ করা হয় এটি। তৎকালীন ইংরেজ গভর্নর মাইকেল ক্বিনের নামেই এর নাম করণ করা হয় । ১১৫০ ফুট লম্বা এবং ১৮ ফুট প্রস্থ এ ব্রিজটি দেখতে ধনুকের মতো বাঁকানো।

ক্স    আলী আমজাদের ঘড়িঘর:- ক্বিন ব্রিজ থেকে নীচে তাকালেই চোখে পড়ে একটি ঘড়িঘর । ব্রিজের পাশে চাঁদনীঘাটে অবস্থিত এ ঘড়িটি আজও দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে। জানা যায়,প্রথম পাশার বিখ্যাত জমিদার আলী আমজাদ খাঁ দিল্লির চাঁদনীচকে শাহজাদী জাহানারা কর্তৃক নির্মিত ঘড়িঘর। দেখে সবাই মুগ্ধ হয়ে যায়।
ক্স    ওসমানী স্মৃতি জাদুঘর:- সিলেট শহরের কাছে নাইওরপুল রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গনী ওসমানীর বাস ভবন “নূর মঞ্জিল” বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের পরিচালনায় এ ঘরে  রয়েছে ওসমানীর স্মৃতি জাদুঘর যা প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী দেখে মুগ্ধ হন।
ক্স    মালনিছড়া চা বাগান:- শহর ছেড়ে বিমান বন্দরের দিকে একটু এগুলেই হাতের বাম পাশ সুন্দর এ চা বাগানটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরোনো চা বাগান। ইংরেজ সাহেব হার্ডসনের হাত ধরে  ১৮৫৪ সালে এ চা বাগানের প্রতিষ্টা।
ক্স    বাংলাদেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন রাতারগুল:- সৌর্ন্দয ও সারল্যে মিলে মিশে আছে রাতারগুল সোয়াম্প ফরেষ্ট । যা কি-না দেশের একমাত্র জলজ বন। রাতালগুল যেতে বির্স্তীণ গ্রাম্য প্রান্তর । বন ঘেঁষা পাহাড়ী সৌর্ন্দয আপনাকে আবেগপ্লুত করবে। প্রাণে দোলা দেবে আর মন ভরিয়ে দিবে সতেজতায়। তবে সবচেয়ে বেশী সুন্দর ও আকর্ষন হলো বর্ষার সময়।
ক্স    জাফলং:- সিলেট শহর থেকে জাফলং এর দূরত্ব প্রায় ৫৫ কিঃমিঃ ভারতের সীমান্ত ঘেঁষে খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের কোলে মনোরম দৃশ্যের  এ স্থানটি । এখানে একটি পাথরের নদী আছে,নদী পার হয়ে খাসিয়াদের পুঁঞ্জি,কমলার বাগান, খাসিয়া পান  চা বাগান ইত্যাদি দেখা যায়। শহর থেকে জাফলং যেতে পড়বে জৈন্তা রাজবাড়ী ,লালা খাল স্পট ,তামাবিল ,শ্রীপুর পিকনিংক সেন্টার।
ক্স    বিছনাকাঁন্দি স্পট:- সিলেট শহর থেকে গোয়াইনঘাট থানায় অবস্থিত বিছনা কান্দি স্পট । এখানে একটি ঝর্না আছে, দেশ-বিদেশের অনেক পর্যটক এই ঝর্না দেখতে ও গোসল করতে আসেন।
ক্স    মাধবকুন্ড জলপ্রপাত:- পাথরিয়া পাহাড়ের প্রায় ২৭২ ফুট উপর হতে অবিরাম গতিতে জলরাশির নিচে পতিত হওয়ার ফলে সৃষ্টি হয়েছে মাধবকুন্ড।
ক্স    হরিপুরের গ্যাস ক্ষেত্র:- এখানে একটি গ্যাসের খনি আছে। গ্যাসের জ্বালানো টিলা আছে, কেহ যদি এই টিলায় পাথর দিয়ে আঘাত করে/পাথর দিয়ে ঢিল মারে তাহলে সাথে সাথে আগুন ধরে যায় ।
ক্স    উতলার  পাড়:- ৭নং কুপের নিকটেই উতলার পাড় অবস্থিত এখানে পানি ভরা একটি পুকরের মতো জায়গা যার গভীরতার কোন হদীছ পাওয়া যায়নি । এখানে সব সময় পানি থাকে ও প্রচুর পরিমানে ফেনা উঠে এই পানির ফেনায় ম্যাচ/দিয়াশলাই ইত্যাদি দিয়ে আগুন ধরালে সাথে সাথে আগুন  ধরে যায় । এই আগুন আর পানির লিলা খেলা দেখলে মনটা ভরে যায়।
ক্স    মনিপুরী জাদুঘরঃ- শহরের সুবিদবাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাড়ীতে প্রতিষ্টা করা হয়েছে এ জাদুঘর।
ক্স    সিলেটে দেখার মতো আরো কয়েকটি জায়গাঃ- জাকারিয়া সিটি,ওসমানী শিশু পার্ক,ড্রীমল্যান্ড পার্ক,ইকো পার্ক,নাজিমগড় রিসোর্ট, এডভেঞ্চার ওয়ার্ল্ড,শহীদ মিনার,সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ষ্টেডিয়াম ,পর্যটন মোটেল। ইত্যাদি।
ক্স    সিলেটের বিখ্যাত খাবারের নামঃ- সিলেটের সাত কড়ার আচার, উন্দাল এর স্পেশাল ভেজিটেবল,সিলেটের পাঁচ লেয়ার চা, সিলেটের চুঙ্গাপুড়া ইত্যাদি।
লেখকঃ
শিক্ষকঃ-বাঘা গোলাপনগর আরাবিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা

সর্বশেষ সংবাদ