Saturday, February 16, 2019
সর্বশেষ সংবাদ
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হবে না: আইনমন্ত্রী         বিরোধীদের নির্মূলে সরকার মরিয়া: মির্জা আলমগীর         পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বাম জোট         বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ৩ দিন বন্ধ থাকবে         কোম্পানীগঞ্জে গর্তে পড়ে আবারো এক শ্রমিক নিহত         সিসিকের বকেয়া বিল আদায় অভিযান অব্যাহত, ৭ দিনে ৩৩ লাখ টাকা আদায়         ছড়া-খাল দখলকারীরা যত বড় প্রভাবশালী হোক, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা-সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী         নগরীতে ‘বৈকালিক সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন’ টিকাদান কর্মসূচিতে বিশ্বে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল—সিসিকের প্রধান নির্বাহী         চার দেশে আশ্রয় চাইলেন আলোচিত সৌদি যুবতী কুনুন         ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: স্থগিত ৩ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছে        

“একজন সাদা মনের মানুষ” আলহাজ্ব একেএম ইয়াকুব আলী-

শাহাব উদ্দিন শিহাব: 

মানুষের স্বভাবজাত একটা প্রবৃত্তি আছে। তা হল পথ চলতে চলতে, যদি সে এগুতে পারে মনের কথা বলতে বলতে, তা হলে সে খুব তৃপ্তি পায়, আনন্দ পায়; সঙ্গী-সাথী নিয়ে চলতে চায়। তাই মানুষ সামাজিক জীব। হামাগুড়ি দেওয়া একটি শিশু, ঐ বয়সেরই আর এক জনকে খোঁজে। সন্ধান পেলে তার কাছে যায়, কথা না বলতে পারলেও হাঁ-হুঁ করে, গায়ে, হাতে, পায়ে ধরে। একজন বয়স্ক ব্যক্তি ও তার সমবয়স্ক ব্যক্তিকে কাছে পেলে আলাপে-সালাপে, গল্প-গুজবে সময় কাটাতে দেখা যায়। সবাই ভাল বন্ধুর সান্নিধ্য চায়। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। বন্ধু খুঁজতে খুঁজতে আমি একজনকে পেয়েছিলাম।

yakub-ali

তিনি শুধু আমার নয়, ছিলেন হাজারো জনের মনের মানুষ, প্রাণের মানুষ “একজন সাদা মনের মানুষ”। মাত্র কিছুদিন আগে আমাদের সকলকে রেখে তিনি চলে গেলেন আর না ফেরার দেশে। তার ছোট্ট সুন্দর দেহটির ভিতরে লুকান ছিল একটা বিশাল হৃদয়, আর স্বচ্ছ-পরিচ্ছন্ন মন। এই মনটিকে সারাটি জীবন ব্যবহার করেছেন মানুষের কল্যানের জন্য। তার চিন্তা-চেতনায় ছিল কিভাবে মানুষকে শিক্ষা-দিক্ষায় এগিয়ে নেয়া যায়। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি কাজ করেছেন মৃত্যুর আগপর্যন্ত।

তিনি হলেন- সিলেটের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় উপজেলা জৈন্তার কৃতি সন্তান,সমাজ সেবী, মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন,শিক্ষানুরাগী, একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রতিষ্টাতা ও সাদা মনের মানুষ আলহাজ্ব একেএম ইয়াকুব আলী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর।  তিনি ২ছেলে ও ৪মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখেগেছেন।

তার জন্ম ১৯১৫ সালের ৫ জানুয়ারি। পৈত্রিক নিবাস ছিল পাশ্ববর্তী বাগেরখাল গ্রামে। বাবার নাম রমজান মিয়া, মায়ের নাম রুপজান বিবি। পৈত্রিক বাড়ির পাশেই মা-বাবার নামে প্রতিষ্ঠা করেন রমজান-রুপজান বাগেরখাল উচ্চ বিদ্যালয়। এছাড়া আলহাজ্ব ইয়াকুব আলী তার জীবদ্দশায় হযরত শাহজালাল (রহ.) ডিগ্রী কলেজ, হরিপুর বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়, হাসান সবুরা দাখিল মাদ্রাসা, নূরজাহান জামে মসজিদ, ইয়াকুব আসিয়া টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে বৃহত্তর জৈন্তা এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা পালন করেন।

প্রায় ৫০/৬০ একর ভূখন্ডের মালিক ছিলেন তিনি। যিনি জীবদ্দশায় কাজ করেছেন সকল মানুষের জন্য। নিজের মেধা, বুদ্ধি, বিচক্ষনতা দিয়ে অবহেলিত ও পিছিয়ে পড়া জৈন্তাবাসীকে এগিয়ে নেয়ার প্রানপণ প্রচেস্টা চালিয়েছেন জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত। সেই লক্ষ্যেই নিজস্ব ভূমিতে প্রতিষ্ঠা করেছেন একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
মানুষ মানুষের জন্য এই মহাসত্যের অধিকারী, সাদা মনের মানুষ, সত্যের পূজারী, শিক্ষানুরাগী, ক্রীড়া সংগঠক,সমাজসেবক ও মানব প্রেমিক ছিলেন, মরহুম আলহাজ্ব একেএম ইয়াকুব আলী।
আলহাজ্ব একেএম ইয়াকুব আলী শুধু একজন শিক্ষানুরাগী ছিলেন না; ছিলেন একজন জনপ্রতিনিধিও। ১৯৬০ সালে তিনি ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এর আগে তিনি পাকিস্তান আমলে ঋণ শালিশ বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বৃহত্তর জৈন্তার সর্বচ্চো শালিশ সমন্বয় সংগঠন সতের পরগনার অন্যতম মুরুব্বি দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

মানুষ মরণশীল শ্বাশত এই সত্যের মাঝেও তাঁর কর্ম তাঁকে আজও বাঁচিয়ে রেখেছে লাখো মানুষের মাঝে। তাঁর চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণায় ছিল সমাজ দেশ, জাতি তথা সাধারণ মানুষ। আলহাজ্ব একেএম ইয়াকুব আলী বিশাল সম্পত্তির অধিকারী হয়েও সব সময় সাধারণ মানুষের মত জীবন যাপন করতেন।

সেই মানুষ আদর্শবাদী, নীতিবান, আলহাজ্ব একেএম ইয়াকুব আলীর পাশের গ্রাম কহাইগড় আমার বাড়ী হওয়ায় এবং নানা- নাতীর সম্পর্ক হওয়ায় অত্যন্ত কাছ থেকে তাঁকে দেখা ও মেশার সুযোগ কখনও হাত ছাড়া করিনি। তাঁর সাথে আমার গড়ে উঠেছিল গভীর হৃদত্যাপূর্ণ সম্পর্ক। সামনের দিকে কাউকে এগিয়ে দিতে কখনও তিনি লুকোচুরি করেননি। সবসময় উৎসাহ দিতেন এগিয়ে যাওয়ার। বলতেন তার কর্ম শুধু মানুষের জন্য। জীবিত থাকাকালে অনেকবার চেষ্ঠা করেছি তাকে নিয়ে দু’কলম লিখার। কিন্তু বাধাঁ হয়ে দাড়ান তিনি নিজেই। কোন কিছু জিঞ্জেস করলেই এড়িয়ে চলা। এর কারনও আছে। তিনি প্রচারের পক্ষপাতি ছিলেন না। বলতেন মৃত্যুর পর যা পারো লিখো- এখন নয়। জীবনের এতোগুলো দিনের কিছু কর্ম অবশ্য নিজেই ডায়রীবদ্ধ করে গেছেন তিনি। বার বার বলতেন মৃত্যুর পর ডায়রীটি যেন সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়। ডায়রীটি এখনো আমার দেখা হয়নি। তবে শুনেছি তার যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ছেলে উদ্যোগ নিয়েছেন ডায়রীটি সংরক্ষনের।

নির্ভীক চিত্ত, বিশাল হৃদয় বিশিষ্ট এই সাদা মনের মানুষটি গত ৬ জানুয়ারি ২০১৫ ইংরেজী রাত ৮টায় নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। (ইন্নালিল্লা—রাজিউন)। ৭ জানুয়ারি মরহুম ইয়াকুব আলীর নামাজের জানাযা চিকনাগুল এম আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁর নিজ বাড়ী সংলগ্ন মসজিদ কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয় কোমল হৃদয়ের এ মানুষটিকে ।
আমি তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনা করি। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতবাসী করুন। আমীন!

লেখক- সাংবাদিক।

সর্বশেষ সংবাদ