Tuesday, January 22, 2019
সর্বশেষ সংবাদ
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হবে না: আইনমন্ত্রী         বিরোধীদের নির্মূলে সরকার মরিয়া: মির্জা আলমগীর         পুনঃনির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বাম জোট         বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ৩ দিন বন্ধ থাকবে         কোম্পানীগঞ্জে গর্তে পড়ে আবারো এক শ্রমিক নিহত         সিসিকের বকেয়া বিল আদায় অভিযান অব্যাহত, ৭ দিনে ৩৩ লাখ টাকা আদায়         ছড়া-খাল দখলকারীরা যত বড় প্রভাবশালী হোক, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা-সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী         নগরীতে ‘বৈকালিক সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন’ টিকাদান কর্মসূচিতে বিশ্বে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল—সিসিকের প্রধান নির্বাহী         চার দেশে আশ্রয় চাইলেন আলোচিত সৌদি যুবতী কুনুন         ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: স্থগিত ৩ কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছে        

চার বিয়ে ছাড়াও ছিল কাজের মেয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক: স্ত্রীর স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি

Sylhet- Murder ftgসুলতান সুমন : সিলেটে তাবলীগ জামায়াতের নেতা ইব্রাহীম আবু খলিল স্ত্রীকে লোহার পাত দিয়ে অত্যাচার করতেন যা দেখে স্ত্রীর মাথা ঠিক থাকেনি তাই তাকে খুন করেছেন তারই স্ত্রী ফাতেহা মাশারুকা। আদালতে দেয়া রোমহর্ষক বর্ণনায় ফাতেহা স্বামী খুনের দায় স্বীকার করেন। তিনি একাই স্বামীকে খুন করেন বলে জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সিলেট মূখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক সাহেদুল করিমের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন ফাতেহা মাশরুকা।

দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দীর্ঘ তিন ঘন্টা তার ৯ পৃষ্টার জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।

ফাতেহা মাশরুকা জবানবন্দীতে যা উল্লেখ করেছেন তা “নিউজ সর্বশেষ২৪ডটকম” এর পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলোঃ

তাকে স্বামী ইব্রাহিম শারীরিক নির্যাতন করতেন। তিনি প্রায়ই স্লিপার দিয়ে প্রাণে মারার ভয় দেখাতেন। তার রুমে সকল সময় চাকু,শাবল,দা,স্লিপার রাখতেন। তিনি বিয়ে করেছেন চারখান। দুইখানের কথা এলাকায় জানাজানি আছে। বাসায় কাজের মেয়ে রাখলে তিনি তাদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করতেন। এক দিন আমি এক কাজের মেয়ের সাথে তাকে খারাপ অবস্থায় দেখতে পেয়ে ওই মেয়েকে বিদায় করে দেই। আর কোন কাজের মেয়ে রাখিনি। মেজো ছেলে জন্ম হয় সিজারে তিনি আমাকে প্রায়ই সিজারে লাতি মারতেন। আমার ছেলেরা আমাকে রক্ষা করতে এলে তাদেরকেও মারপিট করতেন । আমি তার অত্যাচারে অসুস্থ হয়ে যেতাম।আমি তাকে খুব ভালোবাসি তাই সব কিছু নিরবে সইতাম। তিনি সবাইকে ডেকে বলতেন আমি অসুস্থ হয়ে গেছি তিনি চলবেন কি করে । আমাকে বলতেন তিনি আরো বিয়ে করতে চান। তিনি ভাইয়ের বউ মমতাকেও বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। আমি তাতে বাঁধা দেই। তিনি আমাকে প্রায়ই বলতেন আমি সারা জীবন তার কাছে থাকলেও তৃপ্তি মিঠবে না । আমার স্বামি ২ মাস পূর্বে ভারত থেকে তাবলীগ জামায়াত শেষ করে ভারত থেকে দেশে আসেন ।তার এর্লাজি ও হার্টের অসুখ ছিল। তিনি রাতে এলার্জি ও ঘুমের ঔষধ খেয়ে  ঘুমিয়ে ছিলেন। পার্শে¦র রুমে ছেলে ও অন্য রুমে আমি ছিলাম। রাতে তিনি কিভাবে ঘুমিয়ে ছিলেন দেখতে যাই । ঘরের দরজা খুলে দেখি তিনি ফ্লোরে ঘুমিয়েছেন । তার পার্শ্বে সিøপার ( লোহারপাত ) দেখতে পাই যেটা দিয়ে আমাকে অত্যাচার করতেন। তা দেখে আমার মাথা আর ঠিক থাকেনি। আমি ঐ পাত দিয়ে তার মাথায় আঘাত করি ও তার রুমে রাখা চাকু দিয়ে গলা কাটি । আর কিছু জানিনা কিভাবে বের হই ও ঘরের দরজা বন্দ করি তাও জানিনা । সকালে ছেলে জিজ্ঞাসা করে (বাবা কোথায় ) আমি বলি ঘুমিয়ে আছেন। সে দরজা খুলে আমিও যাই গিয়ে দেখি রক্ত ও মৃতদেহ আমার খুব খারাপ লাগে । আমার ছেলে সবাইকে ডাকে সবাই আসে পুলিশও আসে । আমি তিনিকে খুব ভালোবাসতাম । তিনি আমাকে অনেক অত্যাচার করতেন । এই আমার জবানবন্দি ।

গত সোমবার ভোররাতে নিজ ঘরে খুন হন সিলেট নগরীর সওদাগরটুলার বাসিন্দা  তাবলীগ জামায়াতের নেতা ইব্রাহীম আবু খলিল। তাকে জবাই করে লাশ বালিশ চাপা দিয়ে শয়নকক্ষের খাটের নিচে রাখা হয়েছিল। সোমবার সকাল ১০টায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরণ করে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্ত্রী ও  এক ছেলেকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। কোতোয়ালী থানাসহ এসএমপি পুলিশ দফায় দফায় তাদের পৃথক জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে ইব্রাহীমের স্ত্রী ফাতেহা স্বামী খুনের দায় স্বীকার করেন।

জানা গেছে, ইব্রাহীম আবু খলিল নগরীর ধনাঢ্যদের মধ্যে একজন। তার গ্রামের  বাড়ী মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সুজানগরে। স্ত্রী ফাতেহার তরফে তার তিন পুত্র সন্তান রয়েছে। এদের মধ্যে দুইজন হাফেজে কোরআন। তৃতীয় ছেলেও মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত। ইব্রাহীম আবু খলিল প্রায়ই তাবলীগ জামা’তে সময় কাটাতেন। স্ত্রী সন্তানদের সময় দিতেন খুবই কম। ইব্রাহীম একাধারে ভারতে তিন মাস তাবলীগের চিল্লা দিয়ে তিনদিন আগে বাসায় ফিরেন। কোতোয়ালী থানায় জিজ্ঞাসাবাদে গৃহবধূ ফাতেহা মাশরুকা স্বামীকে হত্যার দায় স্বীকার করেন। কারো সহযোগিতা ছাড়াই কিভাবে একা স্বামীকে খুন করলেন তার আদ্যোপান্ত পুলিশের কাছে বর্ননা করেন তিনি। ১৬১ ধারায় পুলিশ ফাতেহার জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করে। জিজ্ঞাসাবাদে ফাতেহা জানান, স্বামী ইব্রাহিম মোট ৩টি বিয়ে করেন। ফাতেহা হলেন প্রথম স্ত্রী। ২য় স্ত্রী বড়লেখার সুজানগরে থাকেন। ৩য় বিয়ে করেন দিনাজপুর জেলায়। তাবলীগ জামায়াতে বেশী সময় কাটানো, একাধিক বিয়েসহ নানা কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল।

নিউজ সর্বশেষ/সুলতান সুমন/১৯ মে ১৫ ইং

সর্বশেষ সংবাদ