Wednesday, December 12, 2018

সিলেট প্রকাশ্যে চলছে পহাড়-টিলা কাটার মহোৎসব

11960204_1627484060873071_7180108258188875585_nনিউজ সর্বশেষ ২৪ রিপোর্ট: প্রকৃতির বৈচিত্রময় সিলেটের পাহাড়-টিলা এক সময় সৌন্ধর্য্য পিপাসুদের কাছে টানলেও এখন আর কাছে টানেনা। প্রভাবশালী দখলবাজ চক্রের হাতে অনেক পাহাড় ইতিমধ্যেই বিলীন হয়ে গেছে। বছরের পর বছর ধরে চলছে পাহাড় কাটার উৎসব। গত কয়েক বছর আগে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে পরিবেশবাদী ও সাধারণ নাগরিকদের প্রতিবাদী ভূমিকা দেখা গেলেও পাহাড় কাটা চক্রের তৎপরতা থামেনি। এখনো প্রকাশ্যেই চলছে পাহাড়ের বৃক্ষ কর্তন, পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি, জমি দখলসহ নানা কর্মকান্ড।

পাহাড় কাটা ভূমিদস্যুদের বেপরোয়া দখলবাজিতে সিলেট সদর,জৈন্তাপুর ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার বেশ ক’টি  ইউনিয়নেই অন্ততঃ অর্ধশতাধিক পাহাড় ধ্বংসের মুখে পড়েছে। বর্ষার শুরুতেই পাহাড় কাটার এই মহোৎসব কোনভাবেই থামানো যাচ্ছেনা। স্থানিয় সরকারদলীয় ক্যাডার, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানিয় পুলিশের সহায়তায় দিন-দুপুরে এসব পাহাড় কাটা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংঘবদ্ধ পাহাড় কাটা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে দু’একটি মামলা দিয়ে বা মাঝে মাঝে দু’একটি মাটি ভর্তি ট্রাক জব্দ করেই কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব শেষ করছে।

সিলেটের এই তিন উপজেলার প্রায় শতাধিক পাহাড়ের মধ্যে গত দশ বছরে প্রায় ৩০টি পাহারেড় মাটি কেটে বিক্রি করে সমতল ভূমিতে পরিণত করেছে এই সিন্ডিকেট। বাকি পাহাড়গুলো থেকে প্রতিদিন ট্রাক,ট্রাক্টও ও পিকআপ ভ্যান দিয়ে মাটি সরিয়ে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের এই সিন্ডিকেটের সাথে পরিবেশ কর্মকর্তা ও পুলিশের যোগসাজশ থাকায় কেউ প্রতিবাদ করতে পারেনা ।

সিলেট শহরতলির খাদিম পাড়া ইউনিয়নের দাসপাড়া, দত্তপাড়া, খিদিরপুর,পীরের বাজার বটেশ্ব, খাদিমনগর ইউনিয়নের বড়শালা, বিমানবন্দও এলাকা, জৈন্তাপুর উপজেলার গাঠেরছটি,ঠাকুরেরমাটি,বাগেরখাল ও গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাগা, ঘোষগাঁও,এখলাছপুর, হেতিমগঞ্জ এলাকায় চলছে পাহাড়-টিলা কাটার উৎসব। জানা যায় জৈন্তাপুর উপজেলার চিকনাগুল ইউনিয়নের গাঠেরছটি গ্রামে বেশ কয়েক জায়গায় দিন-রাত চলছে পাহাড়-টিলা কাটা। একের পর এক উজাড় করা হচ্ছে পাহাড়ের সবুজ বনাঞ্চল। সম্প্রতি চিকনাগুল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিশাল একটি পাহাড় স্কেবেটর দিয়ে মাটি কেটে বিক্রয় হচ্ছে। স্থানিয়রা জানান, রাতে স্কেবেটর আর ট্রাকের শব্দে গুমুতে পারছেন না তারা। স্থানিয় পরিবেশ ও পুলিশে জানানো হলেও থামেনি এই চক্রের পাহাড় কাটা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের চোখের সামনেই ধ্বংস করা হচ্ছে পাহাড় টিলা। অথচ পাহাড়-টিলা কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেই আইন মানছে না কেউই। অবাধে পাহাড়-টিলা কাটার ফলে চিকনাগুল সহ আশপাশের এলাকার অন্যান্য পাড়ার বাড়িঘর ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। পাহাড়-টিলা কাটার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর সহযোগিতা ছাড়া পাহাড়-টিলা খেকোচক্রের সৃস্টি সম্ভব নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে পরিবেশ রক্ষায় তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

পরিবেশ কর্মী ভূমি সন্তান বাংলাদেশের আহ্বায়ক আশরাফুল কবির বলেন, একের পর এক পাহাড় ও টিলা কাটায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলেন, দ্রুত পাহাড় ও টিলা কাটা রুধে ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে ভয়াবহ ধ্বংসের পথে এগুচ্ছে সিলেট।

এক জরিপে দেখা গেছে, সিলেটের শতকরা ১১ ভাগ ভূমি পাহাড়। এর মধ্যে প্রায় ১৮ ভাগ উঁচু ভূমি। এখানে রয়েছে ৬৬ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল। এর মধ্যে শতকরা ২৩ ভাগ এই পাহাড় ও টিলার ওপর অবস্থিত। অথচ এসব টিলা কেটে ধ্বংস করা হচ্ছে বনাঞ্চল। সিলেট অঞ্চলে ১৯৯৭ সালে ছিল ৩৮ হাজার ২৭৭ হেক্টর পাহাড়ি অঞ্চল। ইতিমধ্যে প্রায় ১৫ হাজার বনাঞ্চল উজাড় করা হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে সিলেট অঞ্চল পাহাড়-টিলা শূন্য হয়ে পড়বে।

সর্বশেষ সংবাদ