Wednesday, December 12, 2018

হিন্দু প্রোটেকশন মুভমেন্টের নেতা ইন্দ্রজিত স্বস্ত্রীক দেশ ছেড়েছেন

নিউজ সর্বশেষ২৪ রিপোর্টমৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার পশ্চিমভাগ গ্রামের ইরেশ ঘোষের ছেলে, হিন্দু প্রোটেকশন মুভমেন্টের নেতা, লেখক ইন্দ্রজিত ঘোষ ও তার স্ত্রী পপি রাণী ঘোষ অবশেষে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। গত ৬ মার্চ মঙ্গলবার তারা প্রাণ ভয়ে দেশ ত্যাগ করেন বলে তাদের ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে কোথায় আছেন তা কেউ জানেন না।

মৌলবাদী গোষ্ঠী ও সরকারের একটি মহলের নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে নির্যাতিত এই দম্পতি মিথ্যা মামলার ভয়ে অনেকদিন আত্মগোপনে থেকেছেন। এদেশে লেখকদের যেভাবে হত্যা করা হচ্ছে তারাও এধরনে হত্যােকান্ড, এমনকি সরকারের বাহিনীর দ্বারাও বিচার বর্হিভূত হত্যাকান্ডেরও শিকার হতে পারেন, এই আশংকা থেকেই তারা দেশ ছেড়েছেন বলে সূত্রটি দাবি করেছে।

সিলেট নগরীর একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, লেখক ও হিন্দু প্রোকেটশন মুভমেন্টের নেতা ইন্দ্রজিত ঘোষ দির্ঘদিন থেকেই ‘বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন’ এবং ‘ধর্মীয় কুসংস্কার’ নিয়ে লেখালেখি করেন। এসব কারনে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছে। স্ত্রী পপিকে ধর্ষণ ও ছোট ভাইকে অপহরণ করে গুম করে ফেলা হয়েছে। তার কোন হদিসই পাওয়া যায়নি। ইসলাম ধর্ম অবমাননার মিথ্যা মামলায় ২০১৪ সালের শেষের দিকে তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে ইন্দ্রজিতকে। ২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরে রসরাজ দাস নামের এক যুবকের ‘ফেসবুকে কাবা শরীফকে নিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশে’র জের ধরে নাসিরনগর ও হবিগঞ্জের মাধবপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপসনালয় ও বাড়ি ঘরে হামলা ও লুটপাট করে কয়েক হাজার লোক। বিষয়টি নিয়ে হিন্দু প্রোটেকশন মুভমেন্টের পক্ষে ইন্দ্রজিত লেখালেখি করেন। এ ঘটনার পর ইন্দ্রজিতের গ্রামের বাড়িতে উড়ো চিঠি দিয়ে হুমকি প্রদান করে দুর্বৃত্তরা। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়- ‘শালা ডরালু মালাউনের বাচ্চা। তোরা কেবল মালাউন নির্যতন দেখস। তোর বাফর দেশো এন্ডিয়াতে যে আমাদের গরু খাওয়ার লাগি মারিলায় ওতা দেখস না। ওতা নিয়া মুভমেন্ট করস না। শাল মালাউন। কাফেরোর বাচ্চা। দেখিস তোরে কিতা করি। কাটিয়া কিমা বানাইয়া কুত্তা দিয়া খাওয়াইমু শালা মালাউন। তোর বউতো থাকে মাধবপুর বাফর বাড়িত। তাইরে কিতা করি দেখ। দুইটারেই কাটিয়া নদীত ভাসাই দিমু।- ইতি তোদের আজরাইল’।

সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীর পিএস এর বিরুদ্ধে লেখার কারণে তার উপর বেশ ক’বার হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়। গত বছরের শেষ দিকে ইন্দ্রজিতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে হত্যা করে দৃর্বৃত্তরা। অর্থমন্ত্রীর পিএস জাভেদ সিরাজের নির্দেশে পুলিশ এই হত্যার ঘটনায় ইন্দ্রজিতকে ফাঁসিয়ে দিয়ে তাকেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসামী করে। এরপর থেকেই তিনি স্বস্ত্রীক আত্মগোপনে যান। তার আর খোঁজ মেলেনি। তবে ইন্দ্রজিতের ঘনিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছ তারা বেঁচে আছেন এবং তারা গত ৬ মার্চ দেশ ত্যাগ করেছেন। তবে কোথায় গেছেন এই সূত্রটি তা নিশ্চিত করতে পারেননি।

সর্বশেষ সংবাদ