বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বহুতল ভবন ব্যবহারে সরকারের সনদ লাগবে



নিউজ সর্বশেষ২৪রিপোর্ট ঢাকা: নতুন বহুতল ভবন ব্যবহারে সরকারের সনদ লাগবে। সনদ ছাড়া কেউ নতুন ভবনে বসবাস করতে পারবে না। একইসঙ্গে বহুতল ভবনে বাণিজ্যিক অফিস করতেও এই সনদ লাগবে। সরকারের চার মন্ত্রণালয় চলতি মাসে বৈঠক করে সনদ দেওয়ার বিষয়গুলো চূড়ান্ত করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র সারাবাংলাকে জানিয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, সনদ দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হয়েছে কি না তা কঠোরভাবে দেখা হবে। এক্ষেত্রে ইমারত ও স্থাপনার নকশা অনুমোদন, ভবনের গুণগতমান নিশ্চিতকরণ, স্থাপত্য নকশায় জরুরি নির্গমণ পথ, একাধিক দরজা, জানালা ও বারান্দা নির্মাণের সুযোগ রাখা, ভবন নির্মিত এলাকায় প্রাকৃতিক জলাধার থাকলে তা সংরক্ষণের বিষয়গুলো প্রথমেই বিবেচনায় নেওয়া হবে।

তবে ভবন ব্যবহার বা বসবাসের জন্য সরকারের কোন সংস্থা কিংবা মন্ত্রণালয় সনদ দেবে, সনদের ধরন কেমন হবে, সনদ একটি হবে না একাধিক হবে, কবে থেকে সনদ দেওয়া হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এসব বিষয় চূড়ান্ত করতে চলতি মাসে সরকারের চার মন্ত্রণালয় বৈঠকে বসবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ সব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক এ প্রসঙ্গে বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২১ ফ্রেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানসনে আগুন লাগে। বনানীর এফআর টাওয়ারে ২৮ আগুন লাগে। দুই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সনদ দেওয়ার বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার সদস্যদের উদ্দেশে সচিবালয়ের ৬ নং ভবনের উদাহরণ টেনে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা, বারান্দা না থাকার বিষয়ে কথা বলেন। ওই বৈঠকেই গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে বেশকিছু নির্দেশনাও দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ১১ এপ্রিল চার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। নির্দেশনা কতটুকু বাস্তবায়ন হলো তা প্রতি মাসের ৪ তারিখের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ‘মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ’ অধিশাখায় জানানোর জন্য চিঠিতে বলা হয়।

মন্ত্রিপরিষদের চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে মেনে ভবন নির্মাণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। দেশে জলাশয়, পুকুর, ডোবা ভরাট করে অপরিকল্পিত ভবন বা ইমারত নির্মাণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ভূ-প্রকৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থা বিবেচনা করে ভবনের নকশা তৈরি করতে হবে।

চিঠিতে বলা হয়, ভবনে অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা নিয়মিত মনিটর করা হয় না। এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত ব্যক্তির সংখ্যাও অপ্রতুল। তাই অগ্নিনির্বাপণ, জরুরি উদ্ধার, জরুরি বহির্গমন ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও ফায়ার ড্রিলের আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি ভবনের নকশা অনুমোদনের সময় নির্দিষ্ট শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা তা মনিটর করা প্রয়োজন। ভবন নির্মাণের পর এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ কিনা, বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে বসবাস যোগ্যতার সনদ দেওয়া হবে।

সনদ পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট ভবনে ইউটিলিটি সংযোগ দেওয়া হবে। প্রতিটি ভবন বিশেষ করে বহুতল ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যথাযথ মানসম্মত কি না তা পরীক্ষা করে প্রতিবছর অগ্নিনিরাপত্তা সনদ নবায়ন করতে হবে বলেও চিঠিতে বলা হয়।

এছাড়া, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনায় আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রযুক্তি (বহুতল ভবনের উচ্চতাবিশিষ্ট মই, জাম্বু কুশন ইত্যাদি) ব্যবহারে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। ইমারত ও স্থাপনার নকশা অনুমোদন এবং ভবনের গুণগতমান নিশ্চিত করতে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ, স্থাপত্য নকশায় যথাযথ নির্গমণ পথ, একাধিক দরজা, জানালা ও বারান্দা নির্মাণের সুযোগ রাখার বিষয় বিবেচনা করতে হবে। এসব বিষয়ের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে চার মন্ত্রণালয়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। এছাড়া, মন্ত্রণালয়গুলোকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভূ-প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে ভবনের নকশা প্রণয়ন এবং ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুযায়ী বহুতল ভবন নির্মাণ হয়েছে কি না, তা সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সবকিছু ঠিক থাকলে সনদ পাওয়া যাবে। এ সনদ পাওয়ার পর গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সংযোগ পাওয়া যাবে।

এখানে উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অগ্নিদুর্ঘটনা রোধে সচেতনতা কার্যক্রম শুরুর তাগিদ দিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।