সোমবার, ২৪ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মার্কিন ভিসা পেতে লাগবে সামাজিক মাধ্যমের তথ্য



নিউজ সর্বশেষ২৪রিপোর্ট: এখন থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেতে চাইলে আবেদনের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য দিতে হবে। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর এমন নতুন নিয়ম চালু করেছে। গত বছর এ নিয়মটি চালু করার প্রস্তাব করা হয়েছিলো। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসি এমন খরব প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার আবেদনকারীদের ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যবহৃত অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং গত পাঁচ বছর ধরে ব্যবহার করছেন এমনকি ই-মেইল ঠিকানা ও ফোন নম্বরও জমা দিতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর এই নিয়ম চালুর প্রস্তাব করার সময় যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ হিসেব করে দেখেছিল, বছরে এক কোটি ৪৭ লাখ মানুষের উপর এর প্রভাব পড়বে।

তবে কূটনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। শুধুমাত্র যারা যুক্তরাষ্ট্রে পড়ালেখা করতে বা বেড়াতে যেতে চান, তাদের সোশাল মিডিয়ার তথ্য দিতে হবে। আবার কেউ যদি সোশাল মিডিয়া ব্যবহার না করেন, তাহলে তা উল্লেখ করার সুযোগ থাকবে ভিসা আবেদন ফরমে।

যদি কোনো ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য দিলে তার বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিবেচনায় ‘জঙ্গি বা সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রিত’ এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রেই কেবল ভিসার আবেদনে বাড়তি তথ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সব সময়ই আমাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া উন্নত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিলো যুক্তরাষ্ট্রমুখী অভিবাসন সীমিত করে আনা। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি কড়া নজরদারির উপর জোর দিয়ে আসছেন। ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৮ সালের মার্চে ভিসা আবেদনের সঙ্গে সোশাল মিডিয়ার তথ্য দেয়ার এই নতুন নিয়ম প্রস্তাব করে।

ওই সময় মানবাধিকার সংস্থা আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন বলেছিলো, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নজরদারির এমন নিয়ম যে কার্যকর বা ন্যায্য কিছু হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বরং এরকম নিয়ম হলে মানুষ অনলাইনে তাদের কর্মকাণ্ডের উপর স্বআরোপিত নিয়ন্ত্রণ চালাবে।